সিসিকের অন্দরমহলে দুর্নীতির মহোৎসব! | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

সিসিকের অন্দরমহলে দুর্নীতির মহোৎসব!

সিসিকের অন্দরমহলে দুর্নীতির মহোৎসব!

Manual3 Ad Code

নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসনিক বলয়ে দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একাংশের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নামসর্বস্ব বেতনভুক্ত কর্মচারীরাও বর্তমানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

Manual5 Ad Code

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিসিকের সাধারণ কর্মচারীদের অনেকেই যেন হাতের মুঠোয় ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন। তাদেরমধ্যে গাড়ি চালক ‘পিচ্ছি বাবুল’ এবং আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি তেলের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থে মাটি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। এর বদৌলতে নগরের গোটাটিকর ও আলমনগরে তারা একাধিক বহুতল ভবনের মালিকানা অর্জন করেছেন।

বর্জ্য শাখার পরিদর্শক ফারুক আহমেদ বটেশ্বর ও সৈয়দপুরে বসতভিটা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লটের মালিক। অন্যদিকে, প্রধান অ্যাসেসর আব্দুল বাছিত নগরের খাসদবীরে ‘মরিয়ম ভিলা’ নামক সুদৃশ্য বহুতল ভবনের মালিক। এছাড়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনাফ অকপটে নিজের শত কোটি টাকার সম্পদের মালিকানার কথা স্বীকার করেছেন।

অনিয়মের নেপথ্যে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যুক্তির অভাব নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল মোহাম্মদ একলিম আবদীনের মতে, সরকারি তেল বাঁচিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের প্রবণতা খরচ সাশ্রয়ের অংশ। তবে এই ‘সাশ্রয়’ জনস্বার্থের বিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

Manual1 Ad Code

নগরবাসীর মতে, কেবল হুঁশিয়ারি নয়, বরং প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের উৎস উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সিসিকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ। জনসেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code